চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনে জেনারেটর স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। ভবনটি উদ্বোধনের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে জেনারেটরের অভাব অন্যতম।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ক্লাস পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরার অভাব, ওয়াই-ফাইয়ের ব্যান্ডউইথ সংকট এবং নিরাপত্তাকর্মীর স্বল্পতা নিয়েও তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একজন শিক্ষার্থী ফাতেমা জানান, নতুন ভবনে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কম এবং লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর না থাকায় অসুবিধা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও প্রজেক্টরের অভাব এবং প্রধান ফটকে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী নাহিদ জানান, অনুষদের অডিটোরিয়ামের কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে উল্লেখ করে তিনি জেনারেটর অথবা ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু সমস্যা সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও ডিনের উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব। উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াই-ফাইয়ের মতো বিষয়ে ডিনরা উদ্যোগ নিতে পারেন। জেনারেটরের বিষয়ে তিনি জানান, নতুন কলা অনুষদ ভবনের জন্য ইতোমধ্যে জেনারেটরের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তবে জেনারেটর নিয়মিত চালানোর জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন মো. ইকবাল শাহীন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনের তুলনায় নতুন কলা ভবনে উন্নত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো থাকলেও ব্যান্ডউইথের সীমাবদ্ধতা একটি মূল সমস্যা। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়ভাবে যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ নেয়, তা থেকেই সব ভবনে বিতরণ করা হয়, তাই ব্যান্ডউইথ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় প্রশাসনকেই নিতে হবে। পুরো ভবনের জন্য জেনারেটর স্থাপনের দাবিকে বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে ডিন বলেন, এমনকি ডিন অফিসেও জেনারেটর নেই। বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী আইপিএস-এর ব্যবস্থা করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা জেনারেটর স্থাপন করতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সক্ষমতা ও ব্যয় প্রয়োজন, যা বর্তমানে সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

















