আইন ও আদালত

ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

প্রতিবেদক
কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে কিশোর গ্যাং সদস্যকে গুলি, কুপিয়ে হত্যা কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে কিশোর গ্যাং সদস্যকে গুলি, কুপিয়ে হত্যা ভোলার মেঘনায় জেলের জালে ১৫ কেজি ওজনের বিশাল পাঙাশ ভোলার মেঘনায় জেলের জালে ১৫ কেজি ওজনের বিশাল পাঙাশ কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী ফরহাদ খুন কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী ফরহাদ খুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক দণ্ডিত ৭ আসামিকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর দণ্ডিত ৭ আসামিকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ: তদন্ত রিপোর্ট আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ: তদন্ত রিপোর্ট বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে: মন্ত্রী মিল্লাত বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে: মন্ত্রী মিল্লাত ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পদদলিত ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পদদলিত আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট ও বাস্তবতা আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট ও বাস্তবতা আওয়ামী আমলের নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস আওয়ামী আমলের নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস
সব খবর

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন আসামির বিরুদ্ধে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই সাতজন আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সকল আসামি পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার ঘোষিত রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক (৫০ শতাংশ) বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারবর্গকে জুলাই ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এই রায়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর প্রথম রায়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে চার্জ ছিল এবং অধিকাংশ চার্জে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আজকের রায় অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং জুলাই ফাউন্ডেশনের বিধিবদ্ধ সংস্থা দ্বারা সেগুলো বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে আহত ও নিহতদের পরিবারকে বিলিবণ্টনের ব্যবস্থা করতে আমার মনে হয় আর কোনো সমস্যা হবে না। আর এই রায় বাস্তবায়ন করবে সরকার। কার কী সম্পদ আছে— এটা সরকার খুঁজে বের করবে এবং সে অনুযায়ী তাদের যে সম্পদ পাওয়া যাবে, তার অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হবে।’

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, রায় প্রকাশের পর ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে। এই সময়ের পর থেকে রায় বাস্তবায়ন করতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।

ট্রাইব্যুনালে এ মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ অপর প্রসিকিউটররা। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সবশেষ ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিচার চলছে। পৃথক দুই ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলার রায় দিয়েছেন। এসব রায়ে ৬১ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাত আসামির বিরুদ্ধে চব্বিশের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর জখম করা হয়। অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সাতজনকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(ক), (গ), (হ) এবং ৪(১), (২), (৩) ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে কথোপকথন হয়। আন্দোলন দমনের সরাসরি নির্দেশ দিয়ে সাদ্দামকে কাদের তখন বলেছিলেন, ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন?’ ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি’ সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থেকে অপরাধ সংঘটনে সমর্থন ও প্ররোচনা দেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রুখে দিতে ও আন্দোলনকারীদের দমনের জন্য রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা প্রদত্ত সংবাদ সম্মেলনকে সমর্থন করে ‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’ বলে বক্তব্য দেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেন কাদের। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদেরের উল্লিখিত নির্দেশসহ অন্যান্য বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরীহ-নিরস্ত্র সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসভাবে পৈশাচিক হামলা চালায়। ফলে সেদিন নারীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এবং সারা দেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। অভিযোগের বিবরণে আরও বলা হয়, ১৬ জুলাই তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ফোন করে ইন্টারনেটের গতি ধীর করার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। একই দিনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ফোন করে ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম মহানগরের সব এলাকা দখলে রাখার নির্দেশ দেন। কাদেরের এমন নির্দেশনার পর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি করে চট্টগ্রামে চাঁন্দগাঁও থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহম্মেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করে। একই দিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে ছয়জন নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাজধানীর তেজগাঁওয়ের দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) আওয়ামী লীগ এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আন্দোলন দমনের জন্য নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। ১৮ জুলাই ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ আন্দোলনকে সরকারবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের রাজপথে নেমে প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ার নির্দেশ দেন। ১৯ জুলাই গণভবনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রধানদের বৈঠক শেষে কারফিউ জারি ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা অবশ্যই কারফিউ, সেটা শুট অ্যাট সাইট হবে।’ অর্থাৎ দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দেন কাদের। শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনে ওবায়দুল কাদের আন্দোলন দমনের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।

অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান খান, আনিসুল হক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মির্জা আজম, শামীম ওসমান, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ অন্যদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে অপহরণ, গুম, হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। তার এসব নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা ১৮ জুলাই মিরপুরে গুলি করে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনসহ ৩ জন, ১৯ জুলাই আসিফ ইকবালসহ ৩০ জন, ২০ জুলাই সিফাত হোসেন ও মহাখালী এলাকায় ৬ জনসহ সারা দেশে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকে রুখে দিতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন।

তার এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুরে গুলি করে শাহরিয়ার হাসান আলভী, মিরাজ ফরাজি, মহিউদ্দিনসহ ১২ জনকে, ফেনীর মহিপালে ইশতিয়াক আহাম্মেদসহ ৭ জনকে এবং লক্ষ্মীপুর সদরে সাদ-আল আফনানসহ ৪ জনকে হত্যা করে। একইভাবে ৫ আগস্ট মিরপুরে মাহফুজুল আলমসহ ২০ জনকে এবং রাজশাহী মহানগরে রায়হান আলী ও সাকিব আনজুমসহ সারা দেশে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়। একইভাবে সারা দেশে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গুরুতর জখম করা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৯ ও ১৫ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে বসে ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ ও প্ররোচনা দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজ জেলা মাদারীপুরে আন্দোলন দমনের বিষয়টি তিনি সার্বক্ষণিক তদারকি করতেন এবং তার নির্দেশে সেখানে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৪ আগস্ট ফার্মগেটে আন্দোলনকারীদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাহাউদ্দিন নাছিমের প্ররোচনায় নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৮-এ সশস্ত্র হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৩ ও ১৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে মহড়া দিয়ে হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঢাকা-১৭ আসনের মহাখালী ও গুলশান এলাকায় হামলা চালিয়ে একাধিক আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়। এছাড়া আন্দোলন দমনে সরকারের বল প্রয়োগের খবর প্রচার করায় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে আরাফাতের বিরুদ্ধে। ১৮ ও ২২ জুলাই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী, যুবলীগ চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ ফজলে শামস পরশ তার অধীনস্থ নেতাকর্মীদের ‘সশস্ত্র অবস্থায়’ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তার নির্দেশ ও নেতৃত্বে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা আন্দোলন চলাকালে হামলা চালায়। ১৮ জুলাই সারা দেশে গুলিতে অন্তত ২৩ জন নিহত এবং আড়াই হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা আহত হওয়ার কথাও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। পরশের বিরুদ্ধে ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ‘আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১২ জুলাই সিলেটে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যুবলীগ নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় অংশ নেওয়া এবং ১৯ জুলাই মিরপুর এলাকায় অস্ত্র হাতে দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নিখিলের সরাসরি নেতৃত্ব ও নির্দেশে মিরপুরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রুস্তম, আসিফ ইকবালসহ ২৬ জনকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ১১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি দেন। ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশ পেয়ে আন্দোলন দমনে দলীয়ভাবে পরিকল্পনা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ১১ জুলাই বিকেলে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাদ্দামের ফোনালাপ হয় এবং সেখানে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ১৬ জুলাই রাজু ভাস্কর্যে সাদ্দামের বক্তব্যের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সশস্ত্র গোষ্ঠী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৩ জুলাই মধুর ক্যান্টিনে ‘ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন’-এর নামে আন্দোলনকারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ১৪ ও ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার সময় হেলমেট পরা অবস্থায় মাঠে থেকে তা সরাসরি তদারকি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আল জাজিরায় ফাঁস হওয়া কথোপকথনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশ পেয়ে তা সারাদেশে বাস্তবায়নের বিষয়টি উঠে আসে।

আজ রায়ের পর মিরপুরে শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রায় বাস্তবায়ন হলে জুলাইয়ে শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে। আসামিগণ যেখানেই পলাতক থাকুক না কেন, তাদের ধরে এনে রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি। আমরা জুলাইযোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অংশ নিতে গিয়ে জুলাইয়ে পুলিশ ও আওয়ামী হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছি। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলাম। চোখের সামনে কতো নির্মম মৃত্যু দেখেছি। ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এই জুলাইযোদ্ধা বলেন, শহীদ পরিবার, অঙ্গহারা জুলাই যোদ্ধাগণ, জুলাইয়ের লড়াইয়ে আহত, গণতন্ত্রকামী মানুষ আসামিদের রায় কার্যকর দেখার অপেক্ষায়।

কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে কিশোর গ্যাং সদস্যকে গুলি, কুপিয়ে হত্যা কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে কিশোর গ্যাং সদস্যকে গুলি, কুপিয়ে হত্যা ভোলার মেঘনায় জেলের জালে ১৫ কেজি ওজনের বিশাল পাঙাশ ভোলার মেঘনায় জেলের জালে ১৫ কেজি ওজনের বিশাল পাঙাশ কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী ফরহাদ খুন কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী ফরহাদ খুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক দণ্ডিত ৭ আসামিকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর দণ্ডিত ৭ আসামিকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ: তদন্ত রিপোর্ট আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ: তদন্ত রিপোর্ট বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে: মন্ত্রী মিল্লাত বিমান বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে: মন্ত্রী মিল্লাত ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পদদলিত ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি পদদলিত আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট ও বাস্তবতা আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট ও বাস্তবতা আওয়ামী আমলের নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস আওয়ামী আমলের নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন: ডাকসু জিএস
সব খবর