ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিয়াদ বর্তমানে বেশ চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসায় সৌদি সরকার আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর দ্বারস্থ হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। রিয়াদ মূলত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
সৌদি আরবের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র হলেও, তারাও বর্তমানে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটে ভুগছে। গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমে আসায় সৌদি আরব এখন অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরব বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের শুধু সামরিক ঘাঁটি বা সরকারি স্থাপনা নয়, বরং দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোকেও নিরাপদ রাখতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার দিকে ড্রোন ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে হুতিদের বিরুদ্ধে। যদিও হুতিরা ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার বা ৬৮০ মাইল দূরের এই নগরীতে ড্রোন পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছে। মক্কার কাছে হুতিদের ড্রোন হামলা বলে প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৫ সালের মদিনার। এর মধ্যেই হুতিরা দাবি করেছে, তারা ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের ১টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং এর ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের কৌশলগত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সেটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হুতিরা এই প্রণালির কিছু দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারন মনে করেন, এটি কেবল সৌদি আরব ও হুতিদের লড়াই নয়, বরং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ রাখার বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তার অনুরোধ এলেও মিত্র দেশগুলো এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের প্রতিহত করার বিষয়ে সৌদি আরবের কাছ থেকে তারা কোনো সরাসরি সামরিক অনুরোধ পাননি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং হুতিদের সঙ্গেও তারা সরাসরি আলোচনা করছেন। ওমানের মাসকাটে গত সপ্তাহান্তে মার্কিন কর্মকর্তারা হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, জার্মানিতে গত সপ্তাহে আটটি দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের এই সংকট নিরসনে কোনো সহজ সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।

















