প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৫৯। ব্রিটেনে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও মসজিদে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় মানুষকে ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দিতে একশর বেশি মসজিদ সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। ‘ভিজিট মাই মসজিদ’ কর্মসূচির আওতায় লন্ডন, বার্মিংহাম, শেফিল্ড, ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, সাউথেন্ড ও কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদে এই আয়োজন করা হয়। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন আয়োজিত এই কর্মসূচি এবার ১১ বছরে পদার্পণ করেছে। মসজিদগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য চা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার, আলোচনা, আন্তধর্মীয় কার্যক্রম, শিল্প প্রদর্শনী এবং মতবিনিময়ের ব্যবস্থা ছিল। আয়োজকদের মতে, মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবারের উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি।
উত্তর লন্ডনের লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিও এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। গত তিন বছরে মসজিদটি একাধিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছে। এক ঘটনায় এক নারী মুসল্লিদের সন্তানদের হত্যার হুমকি দেন, অন্য ঘটনায় মসজিদের গ্যাসের পাইপ খুলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনার পরও মসজিদটি নিজেদের আরও বেশি মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মসজিদটির পরিচালক বিবি খান, যিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের প্রথম নারী সভাপতি, মনে করেন গণমাধ্যমে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তব চিত্র সব সময় উঠে আসে না। তাই বিশ্বাস ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি কথা বলা জরুরি।
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে অনেকে মুসলিমদের সম্পর্কে ভুল তথ্য পাচ্ছেন, যা বিদ্বেষ ছড়াতে সহায়তা করছে। ইস্ট লন্ডন মসজিদ ও লন্ডন মুসলিম সেন্টারের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম জানান, বন্ধুত্ব ও সংহতি যে ঘৃণার চেয়ে শক্তিশালী—তা প্রমাণ করতেই তারা এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ কোনো না কোনো হামলার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার মধ্যে ভয় দেখানো, সহিংসতা, সম্পত্তির ক্ষতি ও অনলাইন নির্যাতন অন্তর্ভুক্ত।
বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই গোলটেবিল আলোচনায় অনেকেই ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ নিয়ে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। হ্যারিঙ্গে বসবাসরত মুসলিম ও ইহুদি দুই সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিবি খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একসঙ্গে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের চেডল মসজিদের ফারুক রফিক এবং ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবারও মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় উন্মুক্ততা ও সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

















