প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৫৮
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আট দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ। সোমবার লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম মোর্তুজা সিআইপি এবং সদস্য সচিব ব্যবসায়ী ও লেখক মাহমুদুর রহমান সুমন স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
এ সময় পরিষদের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবুল, সদস্য আরিফুর রহমান ও আব্দুস সাত্তারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যাংকটির স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গোষ্ঠীর মাধ্যমে ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তন, ঋণ বিতরণ এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে পরিষদ।
পরিষদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে একটি স্বাধীন, দক্ষ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ পর্যালোচনা এবং সব গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, অর্থপাচারের তদন্ত ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে তা ব্যাংকের ক্ষতি পূরণে ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সহজতর করা, বিদেশি মোবাইল নম্বরে ওটিপি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং পরিচালনা পর্ষদে প্রবাসী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়কে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা করপোরেট প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তারা এই দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পরিষদকে অবহিত রাখে। ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকিং খাতের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কর্তৃপক্ষ দাবিগুলোর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত গ্রাহকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

















