প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রতি গ্যালন বা ৩ দশমিক ৭৯ লিটার ডিজেলের গড় দাম ছিল ৬ ডলার ৫০ সেন্ট, যা মাত্র এক মাস আগেও ছিল ৫ ডলার ৬১ সেন্ট। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
দেশের ভেতরে ডিজেলের দাম কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, তিনি বড় তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি স্বেচ্ছায় সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেও রপ্তানি সীমিত করার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির উচ্চমূল্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের আগস্টের জরিপ অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশ ভোটারের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ই নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তবে জ্বালানি বিশ্লেষক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই রপ্তানি সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। তাদের মতে, রপ্তানি বন্ধ করলে দাম কমার বদলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ আরও কমে যাবে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ভোক্তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে মার্কিন উৎপাদকদের ওপর চাপ বাড়ছে, কারণ রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় বড় শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির গবেষক র্যাচেল জিয়েম্বা আল-জাজিরাকে জানান, মার্কিন শোধনাগারগুলো বর্তমানে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে, তবুও বিশ্ববাজারের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ডিজেলের মজুতও গত চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্যমতে, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মজুত কমে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন উৎপাদকরা দেশের ভোক্তাদের কাছে কম দামে বিক্রির চেয়ে বিশ্ববাজারে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করতেই বেশি আগ্রহী। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি সীমিত করার পরিকল্পনাটি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

















