বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকট নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে নেওয়া হয়। শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন, অন্যদিকে তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আখতারুজ্জামানকে লিফটে আদালত ভবনের ৮ তলায় নেওয়া হয়।
আদালতে নেওয়ার সময় আখতারুজ্জামান প্রিজন ভ্যান থেকেই রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সরকার টিকবে না বলে মন্তব্য করেন। প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় পুলিশ তাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়েছিল, কিন্তু ভ্যান থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই তিনি মাথায় থাকা হেলমেটটি ছুড়ে ফেলেন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগের নন বলে দাবি করেন। এ সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। আদালত ভবনের ভেতরে নেওয়ার সময়ও পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তিনি বিভিন্ন আচরণ করেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আদালতে প্রবেশের পর আখতারুজ্জামান পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সবাইকে আদালত থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। শুনানি চলাকালে তিনি বিচারককে হেয় করে রায় দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে মন্তব্য করেন। আদালত তাকে সংযত আচরণের পরামর্শ দিলে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তবে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তার মক্কেল আদালতে সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন এবং পিপি নিজেই তাকে হেয় করেছেন। তিনি মামলাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক বলে অভিহিত করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, আদালতের কাঠগড়ায় আসামির হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আখতারুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ‘ডামি ভোট’ নামে পরিচিত ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে দল পরিবর্তন ও বহিষ্কারের পর গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি নতুন করে সংগ্রামের ঘোষণা দেন। এর আগে তার বিভিন্ন পুরনো বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল।

















