সরকারি কাজে বাধা এবং এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জামিন শুনানির এক পর্যায়ে আদালত কক্ষে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে হেলমেট ও হাতকড়া পরা অবস্থায় আখতারুজ্জামানকে এজলাসে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। বিচারক জামসেদ আলম এজলাসে ওঠার পরপরই দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে এজলাসে দাঁড়ানো নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ২টা ৪১ মিনিটে বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিচারক পুনরায় এজলাসে বসেন। শুনানির শুরুতে আখতারুজ্জামান বিচারকের অনুমতি নিয়ে জানান যে, তার পক্ষে ১০ জন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেবেন। এরপর আব্দুর রাজ্জাক জামিন আবেদন উত্থাপন করে বলেন, রাজনৈতিক পটভূমির কারণেই তার মক্কেলকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজে মারধরের কোনো দৃশ্য নেই এবং আখতারুজ্জামান একজন ৭৩ বছর বয়সী অসুস্থ ব্যক্তি।
জামিনের বিরোধিতা করে প্রধান প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, প্রতিবাদ করার একটি নির্দিষ্ট ধরন থাকে এবং এটি জামিন অযোগ্য ধারার মামলা। তিনি জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে কিছু মন্তব্য করলে আদালত কক্ষে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আব্দুর রাজ্জাক তখন প্রসিকিউটরের বক্তব্যের সমালোচনা করে একে দায়িত্বশীল পদ থেকে প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শুনানি শেষে আদালত চত্বরে বিএনপিপন্থী ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জামায়াত সমর্থকদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে এবং শনিবার আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

















