রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে তাঁর অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের সঙ্গে মহানগর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিটের সভাপতি আল মোস্তাক শাহীন, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক লাল্টুসহ স্থানীয় লোকজন ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক জানান, ওই ব্যক্তিরা অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বাধ্য করে। এ সময় তারা তাঁকে কোনো কাগজ পড়ার সুযোগ না দিয়েই জোরপূর্বক সই করতে বাধ্য করে। উপাচার্য জানান, তিনি লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে সই করেন এবং তাঁর ধারণা কাগজটি ছিল একটি পদত্যাগপত্র। ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তাঁর শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলা হয়।
উপাচার্য আরও জানান, সই করার পর লোকজন তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেয় এবং এ সময় তাঁর মুঠোফোন সাময়িকভাবে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, অফিসের কম্পিউটারের সিপিইউ খুলে নেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শরফুজ্জামান শামীম দাবি করেন, তিনি মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন তবে উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করানোর অভিযোগ সঠিক নয়। অন্যদিকে, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং কোনো নেতা-কর্মী এর সঙ্গে জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যায়টির বর্ণনা দিয়ে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছে এবং এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধান না হলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ চলমান প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়বে। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন। এছাড়া কার্যালয়ে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

















