অতিরিক্ত চার্জ আদায়, কমিশনের নামে অর্থ কর্তন এবং হিসাবের অস্বচ্ছতাসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডাকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর রেস্তোরাঁ মালিকরা। এই সময়ের মধ্যে তাদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁগুলোতে ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার অর্ডার গ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নগরের মুরাদপুর এলাকার বারকাত ফুড স্টেশনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ফুডপান্ডা বিভিন্ন খাতে অযৌক্তিক অর্থ কর্তন করছে। কমিশনের পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জ আরোপ এবং আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতার অভাবের কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালনার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে, যা তাদের ব্যবসার মুনাফাকে কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া অর্ডার বাতিলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়েও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, যদিও অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, কিন্তু ফুডপান্ডার একতরফা ব্যবসায়িক নীতির কারণে রেস্তোরাঁ মালিকরা চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। তারা জানান, এসব সমস্যার বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ মালিকরা ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়ে কমিশন কাঠামো পুনর্বিবেচনা, অযৌক্তিক চার্জ বন্ধ করা, আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অর্ডার বাতিলের ক্ষেত্রে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন। এই ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আগামী সাত দিন সময় দিয়েছেন তারা। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে চট্টগ্রাম মহানগরের রেস্তোরাঁ মালিকরা সম্মিলিতভাবে ফুডপান্ডায় অর্ডার গ্রহণ স্থগিত বা বন্ধ রাখার কর্মসূচি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

















