লেখা এবং পড়া মূলত শব্দের সৌন্দর্য বা ‘বিউটি অফ ওয়ার্ডস’-এর বহিঃপ্রকাশ। এই প্রক্রিয়ায় আমরা সৌন্দর্যের স্বাদ পাই, যা কেবল দেখার বিষয় নয়, বরং অনুভবের বিষয়। লেখক ও প্রবাসী চিকিৎসক অপূর্ব চৌধুরীর মতে, এই অনুভূতি লেখা এবং পড়ার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি পাওয়া সম্ভব। কেউ হয়তো এই সৌন্দর্য খুঁজে পায়, আবার কেউ পায় না; তবে যারা একবার সেই অভিজ্ঞতার স্বাদ পান, তাদের কাছে অন্য সবকিছু তুচ্ছ মনে হয়।
বর্তমান সময়ে আমাদের দেখার অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আমরা এখন অনেক কিছু দেখি কিন্তু বেশিক্ষণ মনে রাখতে পারি না। অনলাইন স্ক্রলিং বা একের পর এক ভিডিও দেখার নেশায় মানুষ এখন তিন সেকেন্ডের বেশি ধৈর্য রাখতে পারছে না। অথচ দেখা এবং লক্ষ্য করার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। মানুষ সাধারণত যা দেখে, তার নিরানব্বই ভাগই কেবল চোখ দিয়ে দেখে, কিন্তু লক্ষ্য করে না। লক্ষ্য করার অর্থ হলো কোনো কিছুর গভীরে প্রবেশ করা, আড়াল বা ভেতরটা দেখা এবং সেই দেখাটিকে নিজের ভেতরে ধারণ করা। যখন কেউ কোনো কিছু লক্ষ্য করে দেখে, তখন সেটি কেবল দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা হৃদয়ে রেখা হয়ে গেঁথে যায়।
চারপাশ বা জগত বদলানোর প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন কেবল নিজের দেখার চোখ বদলানো। দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেললে আপনি আপনাতেই বদলে যাবেন। আপনার স্বভাব এবং আনন্দ পাওয়ার উৎসগুলোও পরিবর্তিত হবে, যা আপনার ভেতরে এক নতুন সত্তার জন্ম দেবে। অনেক সময় আমরা নতুন কিছু জানার পেছনে ছুটতে গিয়ে চমৎকার সব বিষয় মিস করি, যা আমাদের প্রতিদিনের পরিচিত চারপাশেই বিদ্যমান থাকে।
পুরনো বিষয়কে নতুন চোখে দেখা এক প্রকার আবিষ্কার। প্রতিদিনের চেনা জগতকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে এমন সব গভীর সত্য ও আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়, যা আগে কখনো ভাবনায় আসেনি। তাই সব সময় নতুন কিছু জানার চেয়ে, যা জানেন বা যা আপনার চারপাশে আছে, তাকে নতুন চোখে দেখার অভ্যাস করাই বেশি কার্যকর। এই দেখার চোখ তৈরি করতে পারলে প্রতিদিনের সাধারণ জীবন থেকেও অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব।

















