যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করা একটি বিতর্কিত আইনের প্রয়োগ আপাতত স্থগিত করেছেন। ‘জাতীয় স্বার্থের’ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের একটি বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল আমদানিকারী শীর্ষ পাঁচ দেশ—ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান থেকে আসা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়। আইনের শর্ত অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যার মেয়াদ ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাতে নির্বাহী আদেশ জারি করে আইনটির প্রয়োগ স্থগিত করেন ট্রাম্প। এই ছাড় স্থায়ী নয়, তাই প্রেসিডেন্ট পরবর্তীতে যেকোনো সময় আবারও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত আপাতত বড় ধরনের শুল্কের হাত থেকে রেহাই পেল। এর আগে ভারত জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে দেশটির পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, এ ধরনের শুল্ক শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের আইন তৈরি হলেও ট্রাম্প তা কার্যকরে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর পাশাপাশি ডিজেল সরবরাহের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর প্রশাসন নতুন একটি চুক্তি করেছে, যার প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ৩ লাখ টন ডিজেল পাওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার এই ডিজেল চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি এটিকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। এর জবাবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলেনস্কি, তাই ইউক্রেনের নতুন নেতা বেছে নেওয়ার সময় এসেছে।

















