রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক আরোপের মার্কিন পরিকল্পনা স্থগিত হওয়ার ঘটনাকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। তার মতে, ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাজারের জন্য সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ওয়াশিংটন এমন এক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে নেওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। মাত্র দুই দিন পরেই এসব পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিমিত্রিয়েভ জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘গ্রাহাম আইন’ স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি দাবি করেন, আইনটি কার্যকর হলে সবার আগে মার্কিন অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাজার মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতো। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রেমলিন বা পুতিনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় পুতিন মন্তব্য করেন যে, মস্কো পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশ দখলের পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি পুতিন এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

















