যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন ৩ লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের এই হার বেশ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অভিবাসন বিরোধী এই ধরপাকড় ও দেশ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে দ্রুতগতিতে সর্বাধিক ভিসা বাতিল করেছে। তিনি আরও বলেন, জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ভিসা নিয়ে অবস্থানকারী যেসব বিদেশি নাগরিক আইন ভঙ্গ করেছেন, জালিয়াতি করেছেন অথবা জাতীয় নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করেছেন, তাদের প্রতি প্রশাসনের কোনো সহানুভূতি নেই।
তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এসব ধরপাকড়ের ফলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এটি একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে, যারা বর্ণগত প্রোফাইলিংয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন। অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ব্যবহার করে মিনেসোটার সোমালি আমেরিকানদের মতো অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে ঢালাওভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
অধিকারকর্মীদের দ্বারা বিশেষভাবে নিন্দিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজায় ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল এবং রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার চার্লি কার্কের গুপ্তহত্যার বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা। বিদেশি বিক্ষোভকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক মাধ্যমের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালালেও, বর্তমান প্রশাসন আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও কঠিন করে তুলেছে, যার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার জন্য বিপুল পরিমাণ ফি আরোপ করা হয়েছে।

















