রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা একটি স্বাভাবিক রীতি। বিএনপিকে জামায়াত-এনসিপি জোট প্রায়ই ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে অভিহিত করে। ড. কনক সারওয়ারের সঙ্গে এক আলোচনায় আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম, পুরো দলটিকে ঢালাওভাবে চাঁদাবাজ না বলে ভাষাটি কিছুটা মোলায়েম করার। তবে আমার এই শুভ উদ্দেশ্য অনেকেই ভুল বুঝে আমাকে চাঁদাবাজির সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। রাজনীতির মাঠে অফেন্সিভ বা ডিফেন্সিভ কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপিরও পাল্টা মিসাইল প্রয়োজন। ‘রাজাকার’ নামক মিসাইলটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হলেও আওয়ামী লীগ এটিকে ভোঁতা বানিয়ে দিয়েছে। তাই বর্তমানে ‘গুপ্ত’ নামক মিসাইলটি বেশ কার্যকর মনে হচ্ছে, যা জামায়াতের ওপরও প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটিকে ‘গুপ্ত-গুপ্ত’ নাম দিয়েছেন।
তবে জটিলতা তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়। সুশীল বলয় থেকে আসা একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা দলের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার আগমনে দলের অনেক সিনিয়র নেতা নিভৃতে চলে গেছেন। তারেক রহমানের এই ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ নামক মিসাইলটিই কি দলের ভেতরে ভাঙন ধরাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা সময় বলে দেবে। ওই উপদেষ্টার কারণে বিএনপির ভেতরে এখন এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে, যার ফলে দলের অনেক নেতাকর্মী নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে দ্বিধা বোধ করছেন। দলের প্রতিষ্ঠাতা মশিউর রহমান জাদুমিয়া, শাহ আজিজ ও মাওলানা মতিনের অনুসারী ৬০-৭০ শতাংশ নেতাকর্মী বর্তমান পরিস্থিতিতে মনঃকষ্টে ভুগছেন।
ভিপি নুর সম্প্রতি আমাকে ও কলামিস্ট আলফাজ আনামকে ‘গুপ্ত জামায়াত’ বলে আক্রমণ করেছেন। অথচ আমার ব্যক্তিগত জীবন একটি খোলা বইয়ের মতো। ছাত্রজীবন থেকেই আমি মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলাম এবং ঢাকা কলেজ ও মেরিন একাডেমিতে পড়াশোনার সময় যেকোনো স্পটে আমার দিকে অন্তত ১০টি চোখ ফোকাস করা থাকত! আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপি, তাবলীগ ও জামায়াত সমর্থকরা থাকলেও সেগুলোকে জামায়াতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। নব্বইয়ের দশকেই আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ত্রিশাল এলাকায় টপ অবস্থানে চলে যায়। ২০০০ সালের পরপর ময়মনসিংহের এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী বের হয়েছে, যাদের কেউ বলতে পারবে না যে সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ত্রিশালের ইসলামী একাডেমিতে কেবল ইসলামি জীবনব্যবস্থায় চলার উৎসাহ দেওয়া হয়, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের ভাবধারা প্রচারের নির্দেশ কখনোই ছিল না।
আমি ছাত্রজীবনে রাজনীতিবিমুখ ছিলাম, তবে শফিক রেহমানের সান্নিধ্যে এসে বিএনপি ও বেগম জিয়ার রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হই। এক-এগারোর সময় আমি সরাসরি বিএনপির পক্ষ নিয়েছিলাম। শফিক রেহমান যখন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন ম্যাডামের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে পাঠানো চিঠিগুলো আমার মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে পৌঁছাত। গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানগুলোতে শেখ হাসিনার প্রভাব মোকাবিলায় শফিক রেহমানের সেই চিঠিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

















