পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে বাংলাদেশে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা অধিকাংশ ওয়েবসাইট পুনরায় সচল হয়েছে। তবে সচল হলেও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে এখনও নিরাপত্তাঝুঁকি রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। আজ রোববার এ বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে সংস্থাটি। সার্টের সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স (সিটিআই) ইউনিটের নিয়মিত নজরদারিতে এসব অ্যাপ্লিকেশনে পিএইচপির পুরোনো, ঝুঁকিপূর্ণ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ সংস্করণ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে পিএইচপির ত্রুটিপূর্ণ সংস্করণ ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানিয়েছেন, আগের সতর্কবার্তা জারির পরেও অনেক প্রতিষ্ঠান পিএইচপির সংস্করণ হালনাগাদ করেনি, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আরও পুরোনো সংস্করণ রয়ে গেছে। সার্টের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বের নির্দেশনা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা হালনাগাদ করেছে কি না, তার কোনো জবাব দেয়নি, যা এসব সেবাকে সাইবার হামলা ও অননুমোদিত প্রবেশের উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলেছে।
বিশ্বজুড়ে পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির খবর প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক নিরাপত্তার খাতিরে নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। একই পথ অনুসরণ করে অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে। ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইটও একই কারণে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা যাচাই শেষে জনতা ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইট দুপুরের দিকে সচল হলেও, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইট erecruitment.bb.org.bd সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় বন্ধ ছিল।
সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত থাকায় এ ধরনের ঝুঁকি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করছেন সার্ট কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেট থেকে ব্যবহারযোগ্য সব ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, সার্ভার, কনটেইনার ও হোস্টিং পরিবেশে পিএইচপির সংস্করণ দ্রুত যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণগুলো পরিবর্তন করে সর্বশেষ ও সমর্থিত সংস্করণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ সম্ভব না হলে ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার, নির্দিষ্ট আইপি সীমাবদ্ধ করা বা অপ্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার মতো সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, এসব সাময়িক পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদের বিকল্প নয়।

















