সরকার অনুমোদন দিলে পুলিশ ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যকে জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির এক সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। মঙ্গলবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি শাখা উদ্বোধনকালে আইজিপি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করা জরুরি। পুলিশের মতে, আইনের সীমারেখার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা নিশ্চিত করাই ছিল আইজিপির বক্তব্যের মূল লক্ষ্য।
৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মব কালচারের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন সদস্য নিহত ও ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে নেতিবাচকভাবে দেখা বা অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন, যেমন—দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, পুলিশ আইন এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুদৃঢ় আইনশৃঙ্খলা অপরিহার্য। অপরাধ দমনে পুলিশ যদি আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে দ্বিধাগ্রস্ত হয়, তবে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালনই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

















