ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ও শাবিপ্রবির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ পাঁচজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ জারি করে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল। আজ সকালে এই মামলার গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউটর মইনুল করিম জানান, পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। তাই তাদের আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল করিম শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা তৎপর হন।
অভিযোগের বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাপক জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়ে লেখেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রিয় হলেও তিনি আর সেখানে যেতে চান না। তিনি মনে করেন, ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে এরাই হয়তো সেই রাজাকার। এভাবে তিনি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে না নিয়ে তাদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে দমনের উসকানি দেন।
এছাড়াও, ভিসি মাকসুদ কামাল আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে মিটিং করে আন্দোলন দমনের পরামর্শ দেন। তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীরা খুব বেড়ে গেছে উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা, নির্দেশনা ও অংশগ্রহণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সানজিদা আহমেদ তন্বিসহ প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। এছাড়াও, ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও ইডেন কলেজ এলাকায় গুলি করে শাজাহান, খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ, সাইদুল ইসলাম শোভন ও মো. আব্দুল ওয়াদুদ শাওন শিকদারকে হত্যা করা হয় এবং ১৫ জনসহ আরও অনেকে গুরুতর জখম হন। এর মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণের মাধ্যমে আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি বিচারপতি মানিক, আ.ক.ম. জামাল উদ্দিন ও সৈকত বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক।

















