বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যু ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দীপের দেয়া পরস্পরবিরোধী তথ্যে তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে পিবিআই। দুই দিনে দীপ দুই ধরনের বক্তব্য দেয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধোঁয়াশার মধ্যে পড়েছে। তবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘটনার পুরো বিষয়টি দীপের জানা রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দীপের সঙ্গে নিজের মোটরসাইকেলে করে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত ১১টা ৫৪ মিনিটেও তাদের কুরকুরে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধুর সঙ্গে কাটানোর পর তাহসিফের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোড থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে দীপ দাবি করেছেন, রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার পর তারা টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখানে পুলিশের পোশাক পরা কিছু মানুষ তাদের ধাওয়া দিলে তাহসিফ দৌড়ে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ নিজে ২৯ নম্বর পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পরে একা বাসায় ফিরে যান তিনি। তবে এর আগে দীপ দাবি করেছিলেন, রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর রাত ১২টার দিকে তারা আলাদা হয়ে যান। দীপের বাসার দারোয়ান জানিয়েছেন, রাত ২টা ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের দিকে দীপ বাসায় ঢুকেছেন। অথচ তাহসিফের মায়ের ফোনে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের পাঠানো ভয়েস মেসেজ বলছে, তিনি তখন ফেরার পথে ছিলেন।
তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম দীপের ধাওয়া খাওয়ার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তার ছেলে দক্ষ সাঁতারু ছিলেন এবং বিমান বাহিনীর সদস্য হিসেবে সাঁতারে প্রশিক্ষিত। তিনি মনে করেন, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি কোনো মামলা না করলেও সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান জানান, দীপ একেক সময় একেক কথা বলছেন। কেন তাহসিফকে ফেলে দীপ একা চলে এলেন, তা এখনো রহস্যময়। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, দীপ যেসব তথ্য দিয়েছেন তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিদের উপস্থিতি বা আদৌ তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেলটি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা নিশ্চিত হতে কাগজপত্র যাচাই চলছে।

















