রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা দুই দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এই আন্দোলনের আড়ালে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দুপুরে মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম এই আশঙ্কার কথা জানান।
মহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং এ বিষয়ে বোর্ডের মাধ্যমে কাজ চলমান রয়েছে। বিষয়টি আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তারা সড়ক থেকে সরছিলেন না। পুলিশের ধারণা, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অশুভ চক্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উত্তেজনা চলাকালে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে শ্রমিকেরা মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পর্যাপ্ত সদস্য নিয়ে সড়ক পরিষ্কার করেছে এবং জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। তবে এ সময় কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি এবং বর্তমানে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিষ্কারের সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিয়েছিল। যদি কারও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকে, তবে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

















