দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর সেতু দুটির নকশা, অবস্থান এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থার সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হওয়ার পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে।
বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের গুরুত্বও বিশেষভাবে আলোচিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ; পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

















