দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে আয়োজিত তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজের বিদায় সংবর্ধনায় বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগ কেবল বিচারক বা আইনজীবীদের একক কোনো প্রতিষ্ঠান নয়; এটি আমাদের সবার। বিচারক, আইনজীবী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বার ও বেঞ্চ বিচার বিভাগের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।
বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম সংবিধানকে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি স্বাধীনতার চেতনা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি নয়, বরং তার আনুগত্য সংবিধান, আইন এবং নিজের বিবেকের প্রতি। নবীন আইনজ্ঞদের উদ্দেশ্যে তিনি সততা, চরিত্র গঠন এবং নিয়মিত অধ্যয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি রায় ও বিচারতত্ত্ব সম্পর্কে নিয়মিত পড়াশোনা জরুরি।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচার বিভাগকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও সেবামুখী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মামলার জট কমানো এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের আস্থা বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বিচক্ষণ ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিদায়বেলায় তিনি বলেন, বিচারকের আসন থেকে বিদায় নিলেও ন্যায়ের আদর্শ, আইনের শাসন এবং সংবিধানের প্রতি তার অঙ্গীকার আজীবন অটুট থাকবে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি স্থায়ী বিচারপতি হন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

















