ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে প্রায় ৬০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি নৌযান ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকাটিতে নারী ও শিশুরাও ছিল বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার লিবিয়ার টোবরুক শহরের কাছে বারদা দ্বীপের আশপাশে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পূর্ব লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১০ জন যাত্রী সাঁতরে দ্বীপে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লিবিয়ার উপকূলে এ ধরনের নৌকাডুবির ঘটনা নতুন কিছু নয়। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মানুষ লিবিয়াকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। গত মাসেও পূর্ব লিবিয়ার কাছে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হয় মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। লিবিয়ার উপকূল বর্তমানে অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানবপাচারকারীদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
মানবপাচারকারীরা সাধারণত ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় অতিরিক্ত মানুষ গাদাগাদি করে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাঠায়। এই বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত লিবিয়ার উপকূলে অন্তত ৮০০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ এসব ব্যক্তি মূলত দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর নাগরিক, যাদের সবারই গন্তব্য ছিল ইউরোপ।

















