জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে, তবে এই সফলতাকে পূর্ণতা দিতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সফল নাকি বেহাত?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহম্মেদের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভুঁইয়া বলেন, জুলাই নিজেই একটি সার্থকতা। যেই পরিবারের কোনো সদস্য গুম ছিল তারাই বলবে জুলাই সফল। কালেক্টিভ জায়গা থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা থাকে বলেই প্রশ্ন রয়ে যায় এটি সফল নাকি বেহাত। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের পর যে কাঠামোগত পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল, সেই পথ পাড়ি দেওয়া এখনো বাকি। ডাকসু প্রতিনিধি মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, জুলাইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন, কিন্তু সেই জায়গায় কিছুটা হোঁচট খেতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোটার প্রভাব কমলেও তদবির বাণিজ্য এখনো বন্ধ হয়নি। সভায় ১০ জন বক্তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব আরিফ সোহেল বলেন, আন্দোলনের দাবিগুলো পুরোপুরি প্রতিফলিত না হওয়ায় অনেকের মনে এটি বেহাত হওয়ার প্রশ্ন জাগতে পারে। তবে যারা বৈষম্যের শিকার তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার মন্তব্য করেন, ইতিহাসের বিচারে যেকোনো ঘটনার সফলতা বুঝতে সময় প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে ২৪-এর এই গণঅভ্যুত্থান ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।
সাবেক ছাত্রনেতা রাগীব নাঈম জুলাইকে কেবল সরকার পতনের আন্দোলন নয়, বরং একটি বড় গণঅভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি বলেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান, যেখানে বর্তমানে দলের ভেতরে থেকেও প্রতিবাদ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনই এর বড় সফলতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের আসল ব্যর্থতা হবে যদি অপরাধীদের বিচার না হয়। তবে এই আন্দোলন আমাদের রাজনীতিমনস্ক হতে শিখিয়েছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ঈসা ইবনে বেলাল।

















