ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত নাম সালমান শাহ। রূপালি পর্দায় তার আবির্ভাব ছিল অনেকটা ধূমকেতুর মতো, যা খুব অল্প সময়েই দর্শকদের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। মাত্র সাড়ে তিন বছরেরও কম সময়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তা বাংলা চলচ্চিত্রে আজও এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে অকালপ্রয়াত এই নায়কের মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার আবেদন এখনো অমলিন।
সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাটি সেই সময় পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ অসংখ্য ভক্তকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যুরহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে তার মা নীলা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক নয় বরং হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছেন। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি বরাবরই সোচ্চার রয়েছেন।
তারকাখ্যাতির সংজ্ঞা বদলে দেওয়া সালমান শাহ কেবল রূপালি পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও তরুণ প্রজন্মের আইকন হয়ে উঠেছিলেন। তার অভিনয় শৈলী, পোশাকের ধরন, চুলের স্টাইল এবং কথা বলার বিশেষ ভঙ্গি নব্বইয়ের দশকের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে যেসব নায়িকা অভিনয় করেছিলেন, তাদের সিনেমাগুলোও দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সময়ের পরিক্রমায় অনেক তারকা এলেও সালমান শাহর মতো এমন তারকা-উন্মাদনা তৈরি করতে পারা উদাহরণ ঢালিউডে খুব কমই দেখা যায়।
প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বর এলেই ভক্তদের মাঝে ফিরে আসে প্রিয় নায়কের স্মৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি, সিনেমার দৃশ্য ও গান শেয়ার করার পাশাপাশি নানা আয়োজনে তাকে স্মরণ করা হয়। একদিকে ভক্তদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা, অন্যদিকে তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা অমীমাংসিত প্রশ্ন ও তার মায়ের দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি বারবার আলোচনায় উঠে আসে। মাত্র ২৪ বছরের জীবনে তিনি যে উজ্জ্বল ছাপ রেখে গেছেন, তা তিন দশক পরও অটুট। সালমান শাহ নেই, কিন্তু ঢালিউডের আকাশে তার সেই তারকা-দ্যুতি আজও আগের মতোই উজ্জ্বল।

















