নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামটির সাড়ে ৪ একর স্থানজুড়ে বিস্তৃত একটি বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ নানা প্রজাতির নাম জানা-অজানা পাখি বসবাস করছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করে আসছে। চারপাশ সবুজে ঘেরা এই বাঁশঝাড়ের প্রতিটি ডালপালা এখন পাখিদের কলকাকলিতে মুখর। প্রতিদিন ভোরে পাখির কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় হাজার হাজার পাখির ডানার শব্দে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বাঁশঝাড়ের মালিক মাজেদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম পাখিদের এই আশ্রয়স্থলটি সংরক্ষণ করে আসছেন। তিনি বলেন, দাদার আমল থেকেই আমরা পাখিগুলোকে দেখে আসছি এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করি যেন কেউ এদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে। তবে ইদানিং কিছু অসাধু শিকারির উপদ্রব এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি এই এলাকাটিকে সরকারিভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে, তবে পাখি নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোনতাজ আলী জানান, এই পাখির অভয়ারণ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। গ্রামের সবাই মিলে চেষ্টা করেন যেন পাখিদের বিরক্ত না করা হয়। দর্শনার্থী আলম হোসেনের মতে, এখানে প্রতিদিন অনেকেই পাখি দেখতে আসেন, কিন্তু বসার ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীদের কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সরকারি উদ্যোগ নিলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়াশ্রমটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সেখানে একটি পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পাখির গ্রামটিকে কীভাবে আরও পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

















