ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত ‘গরিব নওয়াজ আল মারুফ’ মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। এই অভিযান চলাকালে পুরো এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে প্রশাসন। কালেক্টরেট চত্বরের সব প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) এবং অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মসজিদটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। রাজস্ব নথিতে বিরোধপূর্ণ ৩১৫ বর্গমিটার জমি কালেক্টরেটের সরকারি সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে বলে তারা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে। জানা গেছে, ২০২৫ সালে বজরং দলের এক সাবেক নেতা কালেক্টরেট চত্বরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তোলার পর রাজস্ব বিভাগ তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন স্থাপনা’ আখ্যা দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালি করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রিমাইসেস আইনের আওতায় উচ্ছেদের পাশাপাশি প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি জরিমানাও নির্ধারণ করা হয়।
তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটি প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। কমিটির দাবি, মসজিদটি প্রায় ১৫০ বছরের বেশি পুরোনো এবং এর পক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি নথি তাদের কাছে রয়েছে। মসজিদের মুতাওয়াল্লি তানভীর আহমেদ জানান, সাহারানপুর কালেক্টরেট ভবন নির্মাণেরও আগে ব্রিটিশ আমলে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ১৯১১ সালে মসজিদটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ারও প্রমাণ রয়েছে।
সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটি জেলা আদালতে আপিল করেছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর জেলা আদালত সেই আপিল খারিজ করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের উচ্ছেদ আদেশ বহাল রাখেন। মসজিদ কমিটির অভিযোগ, আদালতের আদেশে সরাসরি মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা ছিল না। আদালতের আদেশের পরপরই ভোর হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

















