দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সফরকালে রোববার বিকেলে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এই অঙ্গীকার করেন। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে তিনি উপস্থিত জনতার সামনে মন্তব্য করেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে অনেক অত্যাচার-নির্যাতনের সাক্ষী হয়েছে দেশ। এখন তিনি আর কোনো সংঘাত, মারামারি বা খুনোখুনির পরিবেশ দেখতে চান না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হানাহানির রাজনীতি পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে আসাই এখন সময়ের দাবি। তিনি দেশের রাজনীতিতে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সমঝোতার একটি পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি জেলায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ দেন, যাতে জেলার মানুষ আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।
নিজ জেলার মানুষের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটির সঙ্গে তাঁর জীবনের সবকিছু জড়িয়ে আছে এবং এ জেলার মানুষের ভালোবাসার ঋণ তিনি কোনোদিন শোধ করতে পারবেন না। সংবর্ধনায় তিনি আরও বলেন, ‘মোর নাম এই নামে হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর তিনি সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। এরপর তিনি সেনুয়া পারিবারিক গোরস্থানে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল এবং প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংবর্ধনাস্থলে ভিড় করেন।

















