ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচের জন্ম দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ১০ গোলের এই অবিশ্বাস্য থ্রিলারে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল জিতেছে থ্রি লায়নরা। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটি ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকে একপেশে করে তুললেও, দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ব্র্যাডলি বারকোলার লক্ষ্যভেদে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স, স্কোরলাইন ৩-৪ করে ফেলে। তবে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জুড বেলিংহামের গোলে ৪-৬ ব্যবধানের এক পাগলাটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টুখেলের দল।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩ মিনিটেই ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে ফরাসিদের একটি দুর্বল পাস ইন্টারসেপ্ট করে বল নিয়ে বক্সে চড়াও হন রাইস। এরপর দারুণ এক ইনসাইড-কাটে ফরাসি রক্ষণকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত ও বাঁকানো শটে বল দূরহ কোণ দিয়ে জালে জড়ান এই আর্সেনাল মিডফিল্ডার। ১৮ মিনিটের মাথায় ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কোনসা। ফরাসি ডিফেন্সের শিথিল মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে অ্যাসটন ভিলার এই ডিফেন্ডার বল বাতাসে ভাসিয়ে নিখুঁত নিশানায় দূরের পোস্টে পাঠিয়ে দেন। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি কোনসার দ্বিতীয় গোল।
ফরাসি রক্ষণের চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে বুকায়ো সাকা ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোলটি করেন। মার্কাস র্যাশফোর্ডের পাস থেকে বক্সে ঢুকে ফরাসি কিপার মাইক মেনিয়কে কাটিয়ে ফেলেছিলেন সাকা। এরপর টার্ন নিতে গিয়ে তিনি রেফারির সাথে ধাক্কা খান। পাল্টা আক্রমণে রায়ান চেরকির একটি শট ডিন হেন্ডারসন সেভ করলে ফিরতি বল আবার চলে আসে র্যাশফোর্ডের পায়ে। তার পাস থেকে একটু সময় নিয়ে জোরালো শট নেন সাকা, যা এক ফরাসি ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে জড়ায়। সাকার জোড়া গোল এবং ডেকলান রাইস ও এজরি কোনসার লক্ষ্যভেদে প্রথমার্ধেই ফ্রান্সকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ছিল থ্রি লায়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ব্যবধান কমায় ফ্রান্স। মাঝমাঠে বল পেয়ে ইংলিশ ডিফেন্সের পেছনে এমবাপ্পের দৌড়টি দারুণভাবে লক্ষ্য করেন মাইকেল ওলিসে। তার বাড়ানো চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইংলিশ কিপার ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করেন ফরাসি অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের নবম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে যান এমবাপ্পে। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তোলে ফ্রান্স। মাঝমাঠ থেকে ইংল্যান্ডের এবেরেচি ইজের ব্যর্থ চেষ্টার ঠিক ২০ সেকেন্ডের মাথায় বল কেড়ে নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে ফ্রান্স। দ্রুতগতির সেই পাল্টা আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-৪ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগ মুহূর্তে উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের সাথে দারুণ এক ওয়ান-টু-ওয়ান কম্বিনেশনে ইংলিশ রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন এমবাপ্পে। এরপর বক্সের ভেতর থেকে বুলেট গতির শটে ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। এই জাদুকরী গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক। একই সাথে বিশ্বরেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২টি গোলের মালিক এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন আর্সেনাল তারকা বুকায়ো সাকা। বক্সে ফাউলের সূত্র ধরে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম প্রথমে বল হাতে নিলেও সাকার হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দিতে উদারতা দেখিয়ে বলটি সাকার হাতে তুলে দেন। স্পট-কিক থেকে ফরাসি কিপার মাইক মেনিয়কে সম্পূর্ণ বোকা বানিয়ে নিখুঁত শটে বল জালের নিচের কোণায় জড়ান সাকা। এই ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের সাথে সাথে ফ্রান্সের অবিশ্বাস্য কামব্যাকের স্বপ্নে জল ঢেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় থ্রি লায়নরা।
তবে ইনজুরি টাইমে উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত গোলে রোমাঞ্চের পারদ চরমে তোলে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে ডান প্রান্ত থেকে বিদ্যুৎ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন দেম্বেলে। এরপর বাঁ পায়ের এক চমৎকার মাপা শটে ইংলিশ কিপার ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করে বল পাঠিয়ে দেন দূরের পোস্টে। এই গোলের মাধ্যমে স্কোরলাইন ৪-৫ করে ম্যাচটিতে অবিশ্বাস্য উত্তেজনার সৃষ্টি করে ফরাসিরা।
ফরাসিদের সব আশা গুঁড়িয়ে দিয়ে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন জুড বেলিংহাম। দেম্বেলের গোলের ঠিক দুই মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে ফ্রান্সের বক্সে হানা দেয় থ্রি লায়নরা। ফরাসি রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। বেলিংহামের এই গোলের সাথে সাথেই ফ্রান্সের ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং ইংল্যান্ড ৪-৬ ব্যবধানের এক পাগলাটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ফরাসি রক্ষণের চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে ব্যবধান ৩-০ করলেন বুকায়ো সাকা! প্রথমার্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ফ্রান্স। মার্কাস র্যাশফোর্ডের পাস থেকে বক্সে ঢুকে ফরাসি কিপার মাইক মেনিয়কে কাটিয়ে ফেলেছিলেন সাকা। তবে টার্ন নিতে গিয়ে তিনি রেফারির সাথে ধাক্কা খান। এরপর পাল্টা আক্রমণে রায়ান চেরকির একটি শট ডিন হেন্ডারসন সেভ করলে ফিরতি বল আবার চলে আসে র্যাশফোর্ডের পায়ে। তার পাস থেকে একটু সময় নিয়ে জোরালো শট নেন সাকা, যা এক ফরাসি ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।

















