দেশের ১০টি জেলায় একযোগে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের বিরোধ দ্রুত ও সহজে নিষ্পত্তির সুযোগ করে দিচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে আদালতে নতুন মামলা দায়ের উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। আদালতে মামলা যাওয়ার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে। একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলা দায়েরের সংখ্যা গড়ে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক মামলায় ৫১ শতাংশ, বণ্টন সংক্রান্ত মামলায় ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, প্রিম্পশন মামলায় ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যৌতুক নিরোধ আইনে ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মামলা কমেছে।
বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত, লিগ্যাল এইড অফিস এবং আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকায় জেলা জজ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর অগ্রগতির পর্যালোচনা করা হবে।
জাইকা, জিআইজেড এবং ইউএনডিপি-এর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের এই দায়িত্বকে কেবল চাকরি নয়, বরং জনসেবা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া মধ্যস্থতা কার্যক্রমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১খ অনুযায়ী বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইলে এই কার্যক্রম চালু করা হলো। এখন থেকে এই জেলাগুলোতে ৭টি আইনের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের পূর্বে লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

















