সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মিন্ট রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বুধবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২নং ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের এই ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, গাজী নজরুল ইসলাম তার সংসদীয় আসন ধরে রাখতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াত নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পদত্যাগের কথা উল্লেখ থাকলেও এখানে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। নৈতিক স্খলনের কারণে তার সংসদ সদস্য পদ থাকা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।
তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সংসদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বিবিসি বাংলাকে জানান, দল থেকে বহিষ্কার হলেও গাজী নজরুলের এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো বিষয় যদি সংসদের ইনকোয়ারি কমিটিতে প্রমাণিত হয়, কেবল তখনই তার পদ যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য সংসদীয় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
















