সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে দলটি। চিঠিতে জামায়াত উল্লেখ করেছে যে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুলের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, গতকাল বুধবার ২২ জুলাই দলের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। চিঠিতে গাজী নজরুলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে দলটি। জুবায়ের আরও জানান, গতকালই চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা থাকলেও সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং স্পিকার নাকি সিইসি—কাকে আগে জানানো হবে, তা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে আজ সকালে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সে অনুযায়ী বিকেলে উভয় দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭৪ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম ১৯৯১ সালে প্রথমবার এবং এবার নিয়ে মোট তিনবার সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমিরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদনে বিয়ের আগে ওই নারীর সাথে দেখা করাকে ‘পর্দা লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করে জামায়াত।
গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পেজে দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে। জামায়াতের কোনো কোনো নেতা অবশ্য মনে করছেন, তিনি নৈতিক স্খলনের পাশাপাশি একটি চক্রের ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন। তবে সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই তাঁকে বহিষ্কারের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

















