প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য বঙ্গভবনের দুয়ার খুলছে। দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট পেতে কিছু সময় লাগতে পারে এবং সে পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের সিনিয়র একজন নেতাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেয়া হবে-আপাতত এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে। সে হিসেবে দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতার নাম তালিকায় আছে। দলের বাইরে থেকে কেউ প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন এমন গুঞ্জন থাকলেও তা নাকচ করে দিয়ে নেতারা জানিয়েছেন, একজন রাজনীতিবিদই হবেন দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। গত ৯ থেকে ১৮ই মে লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের গোয়েন্দা তথ্যের পর সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই যোগাযোগ শপথ ভঙ্গের শামিল এবং ফ্যাসিস্টদের পক্ষে কাজ করার ইঙ্গিতবাহী। এমন তথ্যের পর সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা দেয়া হয় এবং তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, সাহাবুদ্দিন আজ বা আগামীকাল স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সাহাবুদ্দিন অধ্যায় শেষ হবে এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সরকার চাইলে জরুরি অধিবেশন ডেকে তার আগেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারে।
নতুন প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক পুনরায় চাকরিতে ফিরেছেন, তার নাম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলোচনায় এলেও সাংবিধানিক জটিলতার কারণে তার নিয়োগের সম্ভাবনা কম। এদিকে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের প্রায় সবাই জানিয়েছেন, কোনো আমলা নয়, বরং দলের পরীক্ষিত ও সিনিয়র কোনো নেতাই বঙ্গভবনে যাচ্ছেন। দলীয় তালিকায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে ৫ দিন পর অর্থাৎ ২০২৬ সালের পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

















