অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজারো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর প্রবেশের ঘটনায় আটটি আরব ও মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এই কঠোর নিন্দা জানান। তারা এই ঘটনাকে উসকানিমূলক, অবৈধ এবং জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা পরিবর্তনের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় পরিচালিত এই অভিযান ঘৃণা ও উগ্রবাদকে উসকে দেওয়ার পাশাপাশি দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে। মন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, অধিকৃত জেরুজালেম বা সেখানকার ইসলামিক ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী।
ফিলিস্তিনি সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ইহুদিদের ধর্মীয় শোক দিবস ‘তিশা বি’আভ’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার চার হাজারের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, যা চলতি বছরের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা। এ সময় ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও কড়া পুলিশি পাহারায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদের প্রবেশপথে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেয় এবং কয়েকজনকে মারধরও করে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর ১৯৮০ সালে ইসরায়েল অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিলেও ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক রায়ে জানায়, পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ। বর্তমানে জর্ডানের নিয়োগপ্রাপ্ত জেরুজালেম ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ আল-আকসার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। ইহুদিদের কাছে স্থানটি ‘টেম্পল মাউন্ট’ নামে পরিচিত, যেখানে তিশা বি’আভ দিবসে প্রাচীন ইহুদি মন্দির ধ্বংসের ঘটনা স্মরণ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি মন্ত্রী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সহিংস কর্মকাণ্ড এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলকে আল-আকসায় প্রবেশের ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে।

















