ভারতের জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তবে আলোচনার টেবিলে বসলেও রাজপথের প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আন্দোলনের মুখপাত্র।
প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির রাজপথে হাজারো তরুণ-তরুণী বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন। এই আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজিপি। দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, শুক্রবার একটি নিরপেক্ষ স্থানে সরকারি মন্ত্রীদের সঙ্গে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার খোলা মনে আলোচনার টেবিলে আসবে এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা তরুণদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে শুনবে। তবে তিনি একইসঙ্গে জানান, প্রকৃত জাগরণ তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু হয়, তাই তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটছেন না।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে একে তার সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সবচেয়ে বড় যুব প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রধান বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানোয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শুরুতে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের মাধ্যমে অল্প কয়েকজন তরুণ নিয়ে শুরু হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ তরুণের সমর্থনে এটি এখন বিশাল সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
এরই মধ্যে সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক টানা ২৬ দিন পর অনশন ভঙ্গ করায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধনের জন্য শুক্রবার মন্ত্রিসভায় খসড়া বিল তোলা হবে। তবে আন্দোলনকারীরা কেবল আইন সংশোধন নয়, বরং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলন দমাতে বৃহস্পতিবার মধ্য দিল্লিতে ১৬টি মেট্রো স্টেশন ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। শুক্রবারও দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার সময় পুলিশের টিয়ার শেল ও লাঠিপেটার শিকার হন বিক্ষোভকারীরা। বুধবার রাতে যন্তর মন্তরে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীর উপস্থিতিতে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের বিপুল জনসমর্থনের পেছনে কেবল প্রশ্নফাঁস নয়, বরং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তরুণদের জমে থাকা ক্ষোভই মূলত প্রতিফলিত হচ্ছে।

















