দেশের বাজারে সহজলভ্য ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিট আবেদনটি করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএসটিআই এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)। সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল’-এ। এছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। শিশুদের ব্যবহারের উপযোগী চারটি টুথপেস্টেও এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ২৫টি দেশীয় টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি টুথপেস্টের মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি টুথপেস্টের দুটিতেই এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) ও ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজিতে এবং শিশুদের জন্য আমদানি করা কোডোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, টুথপেস্ট থেকে নির্গত এই মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশে মিশে খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের সাথে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, হৃদ্রোগ, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, প্রজননস্বাস্থ্য ও স্নায়ুতন্ত্রের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে, যদিও এই বিষয়ে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

















