জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৭.১ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সাগরের অগভীর অংশে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামোতো জেলা।
ভূমিকম্পের পর থেকে কুমামোতো শহরের একটি শপিংমলে উদ্ধার অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান, তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনে হচ্ছিল যেন শক্ত মাটি হঠাৎ করেই নড়তে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শপিংমল থেকে প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার দূরের একটি দোকানে কম্পনের তীব্রতায় পণ্যসামগ্রী মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং শিশুরা আতঙ্কে কাঁদছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৬ সালের ভূমিকম্পের পর অক্ষত থাকা কোনো একটি ফল্টের কারণে এই ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো আটকা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।

















