চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে চেক পোস্ট বসিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেভিড ইমন বর্তমানে চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছিলেন। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের কৃষক পরিবারের সন্তান ইমনের অপরাধ জগতে উত্থান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে। সাজ্জাদ আলী খানের গ্রুপে যুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা এলাকায় এই চক্রের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
গত ১৩ জুলাই চন্দনপুরার একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ইমনের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই হামলায় তার নির্দেশে অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নিয়েছিল। গত দুই বছরেই ডেভিড ইমন সাতটি খুনের মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুনের ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান নামে দুজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনায়ও তার নাম উঠে আসে। বর্তমানে সাজ্জাদ আলী খানের গ্রুপে অর্ধশতাধিক তরুণ সদস্য রয়েছে, যারা নগরী ও জেলা ভাগ করে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় রায়হানের পাশাপাশি ইমন এই সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না পাওয়ায় তার নির্দেশে চন্দনপুরার ওই ইন্টারনেট অফিসে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এরপর নতুন করে আবার আলোচনায় আসে এই ডেভিড ইমনের নাম।
ওই হামলায় তার নির্দেশে ২০ থেকে ২৫ বছরের অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। ডেভিড ইমন দুই বছরেই ৭ খুনের আসামি হয়েছেন।

















