দেশের বর্তমান চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাকরিপ্রত্যাশীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও সেই অনুপাতে শূন্যপদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্টাডিজের (বিআইডিএস) একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে একটি পদের বিপরীতে গড়ে ১৫৯ থেকে ২৩৫টি আবেদন জমা পড়ছে। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এই প্রতিযোগিতার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।
গবেষণা প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিআইডিএস ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়। বিআইডিএস মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক অতনু রাব্বানি। গবেষণায় ২০১৫ সালের ২৮ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বৃহত্তম অনলাইন জব পোর্টাল বিডি জবসের তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
অধ্যাপক অতনু রাব্বানি জানান, বিডি জবসের তথ্য দেশের আনুষ্ঠানিক খাতের আড়াই শতাংশকে প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময় প্রতিটি পদের বিপরীতে আবেদনের সংখ্যা ছিল গড়ে ১৭৩টি, যা মহামারির পরবর্তী সময়ে বেড়ে ২৮৭টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত লকডাউনের সময় চাকরির বিজ্ঞাপন ৭০ দশমিক ২ শতাংশ এবং শূন্যপদের সংখ্যা ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ওই সময়ে আবেদনের হার ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ কমলেও প্রতিটি পদের বিপরীতে আবেদনের সংখ্যা ২৮৭ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছায়, যা গবেষণার পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসার পর চাকরির বাজার স্বাভাবিক হতে প্রায় ৪১ সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এমনকি ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়েও শ্রমবাজারের অস্বাভাবিক অবস্থা প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি ছিল। করোনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি দেশের চাকরির বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাজার কিছুটা সহজ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিষয়গুলোর প্রভাব গবেষণায় প্রতিফলিত হয়নি, যা ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ করার তাগিদ দেন তারা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, সরকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জ্বালানি সংকট থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

















