বাংলাদেশ

সৌদির নেতৃত্বে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিল বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
সব খবর

লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি রপ্তানিতে বাধা পেয়ে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নিয়ে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই জোট গঠনের তথ্য জানানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগর দিয়ে সব ধরনের জাহাজের অবাধ চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

রিয়াদ থেকে আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এতে অন্তত ৫০টি দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল সৌদি আরবের। ৪২টি মুসলিম দেশের ওই জোটে যুক্ত হলেও রিয়াদে জোটের সদর দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল পাঠায়নি ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রিয়াদে আয়োজিত এই সংক্রান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান প্রতিনিধিত্ব করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরব এই জোটের প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। সব পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ এতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সৌদি আরবের এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য সুরক্ষার বিষয়টি। মাত্র ২৯ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ১০ থেকে ১২ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য হয়ে থাকে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী বাব আল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোর ওপর হামলার হুমকি দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে রিয়াদ। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লোহিত সাগরকে বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করছিল সৌদি আরব। এখন সেই পথেও নৌ-অবরোধের মুখে পড়ায় নতুন এই জোটের প্রয়োজন দেখা দেয়। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইসলামি সামরিক জোটে (আইএমসিটিসি) যোগ দিয়েছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিআইপিএসএস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ অতীতে কোনো সামরিক জোটে যুক্ত না হওয়ায় এই সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

জোটের সদর দপ্তর কোথায় হবে বা সদস্য দেশগুলো ঠিক কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। তবে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া ও অভিযানের পরিকল্পনা করাই হবে তাদের কাজের পরিধি। এটি একটি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে কাজ করবে এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে নিশানা করবে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব খবর