ভোলার মেঘনা নদীতে হঠাৎ তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও সহায়-সম্বল হারানোর ভয় ক্রমেই বাড়ছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। নদীপাড়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নদীভাঙন শুধু বসতভিটাই নয়, বরং কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। আগামী একনেক বৈঠকে বড় বাজেট অনুমোদন হলে স্থায়ী নদীভাঙন রোধে কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলেই নদীভাঙন এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণের জন্য জোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তীরবর্তী অধিবাসীদের আশঙ্কা, মেঘনার ভাঙনের গতি যেভাবে বাড়ছে, দ্রুত কার্যকর ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা গেলে ভোলার আরও বিস্তীর্ণ জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

















