নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে আস্থা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই স্থিতিশীলতাকে পুঁজি করে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ওপর জোর দিয়ে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার বাস্তব সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াশিংটন। এই ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এবার নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গতকাল সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠকে এই রূপরেখা উঠে আসে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদি আমিন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রযুক্তি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এর জবাবে সার্জিও গর বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জানান, ভবিষ্যতে ঢাকা যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিশেষ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ চেইন সুরক্ষিত করা। এছাড়া এফডিএ-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়েও দুই পক্ষ নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ অবকাঠামোতেও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সয়াবিন, তুলা ও গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ওয়্যারহাউজ নির্মাণে মার্কিন অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে। সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করার সিদ্ধান্তটি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। কক্সবাজারের শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উভয় পক্ষই সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
বৈঠকের পর সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বড় সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনদিনের সফর শেষে গতকাল দুপুর ৩টার দিকে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক এবং ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, আগত মার্কিন প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নীতিনির্ধারক সংস্থা ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে বিনিয়োগ, নীতিগত সহায়তা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।

















