চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে উপজেলার ৩ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রায় ২৭ হাজার কৃষক। এই দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় সবজির বাজারে।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, সরকারি হিসেবে কৃষি খাতে এই বন্যায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সবজি ও অন্যান্য কৃষি ফসল মিলিয়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও সহজশর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় তাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত বাঁশখালী থেকে চট্টগ্রামের বাজারে বড় একটি অংশের জোগান আসে। পুঁইছড়ী, নাপোড়া, শেখেরখীল, চাম্বল, জলদী, বৈলছড়ী, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, কাথারিয়া, বাহারছড়া, পুকুরিয়া ও সাধনপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পূর্ব-পুঁইছড়ীর কৃষক হেলাল জানান, তার কাঁকরোল ক্ষেতের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে এবং যা অবশিষ্ট আছে তা চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে মৌসুমি সবজির দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বন্যার মাত্র কয়েকদিন আগেও যেসব সবজি ১০ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল ১২০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১২০ টাকা, কচুরলতি ৮০ টাকা, কচুর ছড়া ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা এবং দেশি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বাইরের আলু ৩০ টাকা এবং প্রতি পিস কাঁচা কলা ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

















