বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে রয়্যাল থাই দূতাবাসের কাউন্সেলর মোরাকোট উইরাওংফ্রমও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ। ই-ভিসা ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে থাইল্যান্ডের ভিসা প্রদানের সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। এছাড়া বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিরসনে বাংলাদেশ সরকার ও থাইল্যান্ডের চলমান উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ২০২৭ সালে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে যৌথ উদ্যোগ ও উদযাপনের বিষয়টি উঠে আসে। বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডে ভ্রমণকারী পর্যটকদের নিরাপত্তা, সেবার মানোন্নয়ন ও ভ্রমণ সহজীকরণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে থাইল্যান্ড ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়ে কথা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে রাষ্ট্রদূত অবহিত করেন। এছাড়া শ্রমবাজার ও কর্মী অভিবাসন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আনন্দময় শিক্ষণ, পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তি, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিতকরণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

















