ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে রুশ বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এক ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরে কিয়েভে চালানো অন্যতম প্রাণঘাতী এই হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। বুধবার মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক হামলার জেরে কিয়েভজুড়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বহাল ছিল।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় বরিসপিল জেলায় সর্বোচ্চ ৯ জন, বুচা জেলায় ৪ জন এবং ফাস্তিভ জেলায় ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দফায় দফায় নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি শহর ও এর আশপাশের জনপদে আঘাত হানলে বহু আবাসিক ভবন ও গুদাম পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রস্থলে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
রাশিয়া সম্প্রতি কিয়েভে তাদের বিমান ও ড্রোন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। এর জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা তীব্রতর করছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউক্রেন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মিত্র দেশগুলোর কাছে মার্কিন নির্মিত আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জোরালো দাবি জানিয়েছে।

















