গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সমঝোতার আশায় শেষ পর্যন্ত তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। এর বিপরীতে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করার পাশাপাশি হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরেক কর্মকর্তাও তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বার্তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় ওই কর্মকর্তারা বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, পরিকল্পিত ওই হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণ হতে পারতো। তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বারবার বিবেচনা করেছেন। কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত এলে উপসাগরীয় অঞ্চলের একই ধরনের স্থাপনায় তারা পাল্টা হামলা চালাবে।
ইরান অতীতেও এ ধরনের হুমকি দিলেও এবারের বার্তাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও সুনির্দিষ্ট। উপসাগরীয় ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন বার্তায় হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর একটি দীর্ঘ তালিকাও তেহরান দিয়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো আক্রমণের জবাবে ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। তার সেই হুমকির জবাবে তেহরানও ‘যেমন আঘাত তেমন প্রত্যাঘাত’ নীতির কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

















