চলতি মাসেই বাংলাদেশ তার ২৩তম রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে। গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে যদি একাধিক প্রার্থী না থাকে, তবে ১৬ আগস্ট বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই একক প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হতে পারে। ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যাবে।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সী হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া, সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি অভিশংসন প্রক্রিয়ায় অপসারিত হয়ে থাকেন, তবে তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতার যে শর্তগুলো রয়েছে, সেগুলোও রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া, দেউলিয়া হওয়া, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করা, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া এবং সরকারি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সংসদীয় রীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং অন্যজনকে সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। এছাড়া প্রার্থীর নিজের সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও প্রয়োজন। সংসদীয় ব্যবস্থায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সমর্থিত প্রার্থীই সাধারণত জয়লাভ করেন। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলটির সিদ্ধান্তই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মূল ভূমিকা পালন করবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলমান থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সাথে আলোচনা করে ভোটের দিন নির্ধারণ করবে এবং ওই দিন সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গ্রহণের জন্য সংসদকক্ষে ব্যালট পেপারের ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ভোটে অংশ নেবেন। প্রতিটি ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে এবং ভোটাররা সেখানে স্বাক্ষর করে তাদের ভোট প্রদান করবেন। অতীতে দেখা গেছে, সংসদে ক্ষমতাসীন দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে বিরোধী দল সাধারণত প্রার্থী দেয় না, যার ফলে একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

















