সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মৃতদেহ পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ জন বাসিন্দা রয়েছেন। আত্রাইয়ের ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজন, উদনপৈ গ্রামের একজন এবং ডুবাই গ্রামের দুজন রয়েছেন। আত্রাইয়ের নিহতরা হলেন সাগর, মজিদুল, ফরিদ শেখ, সুমন, হাসিবুল হাসান, মহুন প্রামাণিক, সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন, কলি প্রামাণিক এবং আবদুল জলিল।
অপরদিকে, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, তাদের এলাকার তিন বাসিন্দা ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তারা হলেন সাব্বির হোসেন সোহাগ, শামীম হোসেন এবং রবিউল আওয়াল হৃদয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর মাধ্যমে তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এক শোক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এর আগে রাতে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রিতিনিধিরা বলছেন, রোববার দুপুরের দিকে ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশের নাগরিক আছে কিনা সেটা অবশ্য স্বজনরা বলতে পারেননি।
আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন- উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজিদুল (৩৪) , উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জল

















