একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য হলো শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক অবস্থার একটি সমন্বিত সুস্থতা, যেখানে রোগবালাইয়ের পাশাপাশি ভয়, হতাশা ও মানসিক চাপ থেকেও মুক্তি পাওয়া জরুরি। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশই কিশোর-কিশোরী, তাই এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
দ্রুত নগরায়নের ফলে বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বস্তি ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য অপরিকল্পিত বাসস্থান, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাব, দূষিত পরিবেশ এবং অপুষ্টির মতো চ্যালেঞ্জগুলো নগর স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচেতনতা এখন কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষার্থীরা নিজের দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল অভ্যাসের মাধ্যমে অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করতে পারে। সঠিক সময়ে হাত ধোয়া, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা তারা বন্ধু ও সহপাঠীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখা শিক্ষার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব। শ্রেণিকক্ষ থেকে খেলার মাঠ পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে তারা সংক্রামক ব্যাধি রোধে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর জাঙ্ক ফুডের প্রতি তরুণদের ঝোঁক কমাতে তারা টিফিনে ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে আসার মতো ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা একে অপরের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সহমর্মী হয়ে একটি দুশ্চিন্তামুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সঠিক স্বাস্থ্যতথ্য প্রচার করে তারা পরিবার ও সমাজকেও সচেতন করতে পারে।
প্রকৃতপক্ষে, সচেতন শিক্ষার্থীরাই পারে একটি রোগমুক্ত ও প্রাণবন্ত জাতি উপহার দিতে। আজকের এই সচেতনতাই আগামীর সুস্থ বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। বিশেষ করে বস্তি ও অনগ্রসর এলাকায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তরুণদের অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন। নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতার ঘাটতি মোকাবিলায় তরুণরা কার্যকর পরিবর্তন-দূত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মোঃ মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক, ইমেইল:mejan1987@gmail.com

















