ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিজেকে তুলে ধরলেন আর্লিং হালান্দ। ম্যাচে মাত্র চারটি বল স্পর্শ করেই জোড়া গোল আদায় করে নিয়েছেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা। তার এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল নরওয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। খেলা শুরুর তিন মিনিটেই নরওয়ে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর ১৪ মিনিটে ব্রাজিল পেনাল্টি পেলেও ব্রুনো গিমারাইস গোল করতে ব্যর্থ হন। টাইব্রেকার বাদে গত ৪০ বছরে কোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি মিসের এমন নজির নেই। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু নরওয়ের গোলকিপারের দৃঢ়তায় তা সম্ভব হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তি নেইমারকে মাঠে নামালেও প্রত্যাশিত ফলাফল আসেনি। উল্টো নেইমার হলুদ কার্ড দেখেন। খেলার ৭৯ মিনিটে হালান্দের হেডে গোল করার পর ম্যাচের শেষ দিকে দূরপাল্লার এক অসাধারণ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে জয়ের পথ নিশ্চিত করে ফেলে নরওয়ে। এই আসরে সাত গোল করে হালান্দ এখন মেসি ও এমবাপ্পের কাতারে।
রেকর্ড বলছে, এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি। ২০ বছর পর হওয়া এই লড়াইয়ে ডার্ক হর্স নরওয়ে আবারও প্রমাণ করল কেন তাদের রুখে দেওয়া কঠিন। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে হালান্দ যে দাপট দেখালেন, তা আধুনিক ফুটবলে এক নিয়ন্ত্রহীন দানবের মতোই। গ্ল্যাডিয়েটরের মতো লড়ে নরওয়ে এখন পৌঁছে গেল নতুন উচ্চতায়।

















